A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

ডিজিটাইজ ভূমি ব্যবস্থাপনা সহসাই সুফল পাচ্ছেনা জনগণ | Probe News

Land Survey Cover 07.10.2015ডিজিটাইজ ভূমি ব্যবস্থাপনা
সহসাই সুফল পাচ্ছেনা জনগণ

শফিক রহমান,প্রোবনিউজ: ভূমি ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা নিশ্চিত হতে এবং হয়রানি মুক্ত সেবা পেতে ভূমি মালিকদের আরো কতদিন অপেক্ষা করতে হবে, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। যদিও ইতোমধ্যেই ভূমির ডিজিটাল সার্ভে, মৌজা ম্যাপ ও খতিয়ান ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণের জন্যে কয়েকটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। কিন্তু ভূমি রেকর্ড ও সার্ভে বিভাগের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সহসাই এসব প্রকল্পের সুফল পাচ্ছেনা জনগণ ।

বর্তমান সরকারের প্রতিশ্রুতিগুলোর মধ্যে একটি ছিল আধুনিক ভূমি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি চালু করা। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০৯ সালে ‘সাভার ডিজিটাল সার্ভে’ শীর্ষক একটি কর্মসূচি হাতে নেয় ভূমি রেকর্ড ও সার্ভে অধিদপ্তর। কর্মসূচির আওতায় সাভার এলাকার ২১৪টি মৌজার মধ্যে মাত্র ৫টি মৌজাকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে জরিপের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। মৌজাগুলো হচ্ছে- জিনজিরা, আকরান, খাগান, কলমা এবং আউকপাড়া। ছয় বছরেও শেষ হয়নি এ প্রকল্পের কাজ।

জানা গেছে, এর মধ্যে আউকপাড়া মৌজার জরিপ এখন পর্যন্ত সম্পন্ন হয়নি। ঢাকা জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার মো. মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, কোর্টস অব ওয়ার্ডস-এর জমির জটিতলার কারণে মৌজাটির কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। অন্য চারটি মৌজার মধ্যে দুটির রেকর্ডপত্র ইতোমধ্যে প্রকাশ করা হয়েছে এবং বাকি দুটির রেকর্ডপত্রও শিগগিরই প্রকাশ করা হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে ‘আপনার জমি আপনার অধিকার’ স্লোগান নিয়ে ২০১১ সালে ‘স্ট্রেংদেনিং এ্যাকসেস টু ল্যান্ড এন্ড প্রপার্টি রাইটস ফর অল সিটিজেন অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক অপর একটি পাইলট প্রকল্প হাতে নেয় ভূমি রেকর্ড ও সার্ভে অধিদপ্তর। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ১০০ কোটি টাকা। জামালপুর সদর উপজেলা, রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলা এবং বরগুনার আমতলী উপজেলার ভূমি ডিজাল পদ্ধতিতে সার্ভের আওতায় নিয়ে আসা, জাতীয় পর্যায়ে খাস জমিসহ সব ধরনের ভূমি ব্যবহার সংক্রান্ত একটি ভূমিনীতি প্রণয়ন করা, ভূমির মালিকানা বিষয়ে একটি নির্ভরযোগ্য ভূমি রেকর্ড পদ্ধতি প্রতিষ্ঠা করা, লিগাল এন্ড ইনস্টিটিউশনাল ফ্রেম ওয়ার্ক তৈরি করা, দক্ষতা উন্নয়ন করা, গণশিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধি করাই ছিল মূলত এই প্রকল্পের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।
শুরুতে বলা হয়েছিল, প্রকল্পটি সফল বাস্তবায়িত হলে এর ভিত্তিতে ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রকল্পের মাধ্যমে সারা দেশের ভূমি ডিজিটাল জরিপের আওতায় নিয়ে আসা হবে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, চলতি এ পাইলট প্রকল্প শেষ হতে ২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। সেক্ষেত্রে ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং সেবা নিতে আসা জনগণকে হয়রানির হাত থেকে মুক্তি পেতে আর কতদিন অপেক্ষা করতে হবে, জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক মো. শামসুল আলম বলেন, ‘ভূমি ব্যবস্থাপনা একটি জটিল বিষয়। এই জটিলতা দূর করতে সময় তো লাগবেই’।

তবে কতটা সময় লাগতে পারে তার ইঙ্গিত দেন অধিদপ্তরের পরিচালক (রেকর্ড জরিপ) মো. ফায়েকুজ্জামান চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘এদেশে প্রথম ক্যাডেস্টাল সার্ভে (সিএস) শুরু হয়েছিল ১৮৯০ সালে, আর শেষ হয়েছিল ১৯৪০ সালে। অর্থাৎ একটি জরিপ কাজ শেষ হতে ৫০ বছর সময় লেগেছিল। আর ১৯৭২ সালে শুরু হয়েছিল রিভিশনাল সার্ভে (আরএস), যা আজও শেষ হয়নি । বর্তমানের ব্যাপারে বলবো, দেশের সব জমি ডাটাবেইজে নিয়ে আসতে সময় লাগবে। তবে আশার কথা হচ্ছে যে, কাজটা শুরু তো হয়েছে। ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে শিগগিরই এ সমস্যার সমাধান হবে’।

এদিকে হয়রানিমূলক সেবা বন্ধ করতে ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর ‘স্ট্রেংদেনিং গভর্নেন্স ম্যানেজমেন্ট’ শীর্ষক একটি পাইলট প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের সহায়তায় পরিচালিত এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫৫ কোটি টাকা। প্রকল্পটির পরিচালক জিল্লুর রহমান বলেন, ‘১৯৪০ সালে শেষ হয়েছে সিএস সার্ভে। ভূমি মালিকদেরকে রেফারেন্স হিসেবে আজও ওই সার্ভের রেকর্ড ব্যবহার করতে হচ্ছে। কিন্তু প্রায়শঃই দেখা যায়, সংরক্ষণ প্রক্রিয়ার দুর্বলতার কারণে ওই সব মূল্যবান রেকর্ডপত্র নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। একারণে প্রতিনিয়তই হয়রানির শিকার হন ভূমি মালিকরা। তাই হয়রানি বন্ধ করতে ওইসব রেকর্ড ডিজিটালাইজ পদ্ধতিতে সংরক্ষণের লক্ষ্যে পাইলট আকারে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে’।

তিনি জানান, ‘প্রকল্পের আওতায় দেশের ৭টি জেলা বিশেষ করে গাজীপুর, শেরপুর, জামালপুর, পাবনা, রাজশাহী, দিনাজপুর এবং গোপালগঞ্জের মোট ৪৫টি উপজেলার প্রতিটি মৌজা ম্যাপ, খতিয়ান ও ভূমি সংক্রান্ত সব ধরনের নথিপত্র স্ক্যান করে ডিজিটাইজ পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা হচ্ছে’।

জানা যায়, এ প্রকল্পটি সফল হলে আগামীতে দেশের সব মৌজাম্যাপ ও খতিয়ান ডিজিটাইজ পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা হবে। তখন বিশ্বের যেকোন স্থানে বসে যে কেউ নিজ নিজ ভূমির রেকর্ড সংক্রান্ত তথ্য জানতে পারবেন।

অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুল জলিল বলেন, ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনার লক্ষ্যে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে। এর একটি হচ্ছে, প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে মৌজাম্যাপ ও খতিয়ান তৈরি করা এবং ডিজিটাল পদ্ধতিতে জরিপ পরিচালনা করা। এরই অংশ হিসেবে দেশের ২০ হাজার মৌজার এক কোটি খতিয়ান ডিজিটাল ফর্মে সংরক্ষণ করা হয়েছে। এছাড়া, এক লাখ পাঁচ হাজার ম্যাপ স্ক্যান করে সংরক্ষণ করা হয়েছে। আগামীতে সব মিলিয়ে দুই লাখ পাঁচ হাজার ম্যাপ একই পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা হবে। সাধারণ মানুষ যাতে এসব ম্যাপ ও খতিয়ান সহজে পেতে পারে সে লক্ষ্যে ২০১৬ সালের জুন মাসের মধ্যে সব ডকুমেন্টস সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের কাছে হস্থান্তর করা হবে।

মহাপরিচালক বলেন, কাজটা সত্যিই জটিল। অস্ট্রেলিয়ায় এ কাজ শেষ করতে সময় লেগেছে ২৫ বছর। ফিনল্যান্ড শুরু করেছিল ১৯৮০ সালে। আমরাও শুরু করেছি। সফল হবো- এ ব্যাপারে আশাবাদী।

প্রোব/পি/জাতীয়/০৬.১০.২০১৫

৭ অক্টোবর ২০১৫ | জাতীয় | ১২:৩৪:৩৪ | ১৩:৫৯:২৯

জাতীয়

 >  Last ›